Written By দীপঙ্কর গুহ
ছবিঃসৌ-টুইটার।
পাঁচদিনের টেস্ট ম্যাচ মানেই পনেরোটা সেশনে ব্যাট-বলের লড়াই। আমেদাবাদে নতুন নামকরনে নরেন্দ্র মোদি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে একটা টেস্ট শেষ হতে লাগলো মাত্র পাঁচটা সেশন আর ২৬ মিনিট! ভাবা যায়? টেস্ট ম্যাচে চারটি ইনিংসের লড়াই। অমিত -জয় শাহদের গুজরাট ক্রিকেট স্টেডিয়ামের মাঠের বাইশ গজে কী ছিল! দুটো দিনও পুরো কাটলো না-ভারতীয় দল ১০ উইকেটে জিতল তৃতীয় টেস্ট। ম্যাচের সেরা গুজরাটের ভূমিপুত্র-অক্ষর প্যাটেল। ম্যাচে বাঁহাতি এই স্পিনারটি ১১ টি উইকেট নিলেন। তাঁর দ্বিতীয় টেস্ট ম্যাচ এটি।
মেমোরি রিওয়ান্ড করে ভাবতে হচ্ছিল-ভারতের মাটিতে দু-দিনে টেস্ট ম্যাচ শেষ হয়েছিল কিনা। হলে কবে? - এর উত্তর খোঁজার আগেই ভারতের প্রাক্তন ক্রিকেটার যুবরাজ সিং এভাবে সাহায্য করবেন তা ভাবতেই পারিনি। ফলে গুগলকে দরকার হল না। আসলে ঘটনা হল-- এমন জয়ের পর যুবরাজের একটি টুইট ট্রেন্টডিং মোডে চলে গেল। কী পোস্ট করেছিলেন যুবি? " finished in 2 days Not sure if that’s good for test cricket !If @anilkumble1074 and @harbhajan_singh bowled on these kind of wickets they would be sitting on a thousand and 800? However congratulations to @akshar2026 what a spell! congratulations @ashwinravi99 @ImIshant "
বাংলা তর্জমা করলে দাঁড়ায়ঃ "দু'দিনের মধ্যে খেলা শেষ, টেস্ট ক্রিকেটের জন্য এটা ভালো কিনা, বুঝতে পারছি না। অনিল কুম্বলে আর হরভজন সিং এমনসব উইকেটে বল করলে কি ১০০০ আর ৮০০ নিয়ে নিতো? যাইহোক অভিনন্দন জানাই অক্ষর প্যাটেলকে-দুর্দান্ত স্পেলটির জন্য। অভিনন্দন অশ্বিন আর ঈশান্তকেও। " নিমেষেই ট্রোল্ড হতে শুরু করলেন যুবি। কেন তিনি অশ্বিনের ভারতীয় বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে কম ম্যাচে ৪০০ উইকেট পাওয়া অশ্বিনের কৃতিত্বের দিনে কুম্বলে-হরভজনকে টানলেন? তাহলে পরবর্তী প্রজন্মের ক্রিকেটাররা আগের প্রজন্মের চোখে সবসময় সেই মানের নয়? - এমন অসংখ্য গরম গরম বাক্যবানে টুইটার সরগরম। এইরকম সব টুইট পড়তে গিয়েই পেয়ে গেলাম ২০১৮ সালে বাঙ্গালোর টেস্টের খবরটা। প্রতিপক্ষ ছিল আফগানিস্তান। দু-দিনেই ভারত ইনিংসে জিতে খেলা শেষ করেছিল। আর দ্বিতীয়বার দ্বিতীয়দিনে টেস্ট জয় এবার। প্রতিপক্ষ রুটের ইংল্যান্ড। যে দল ভারত সফরে আসার আগে শ্রীলঙ্কাকে নাস্তানাবুদ করে দু-টেস্টের সিরিজ ২-০ তে জিতে এসেছিল। যে দল সিরিজের প্রথম টেস্টে এই কোহলির দলকেই ২২৭ রানে হারিয়ে দিয়েছিল। তারপর থেকে ভারত নিজের শক্তিতে ভর করে খেলতে শুরু করেছে। স্পিন আর ব্যাটিং- এই জোড়া ফলায় কুকদের বিঁধে ফেলা হচ্ছে।
যুবি'র একটা কথায় আমার শতকরা ১০০ ভাগ সমর্থন আছে। দু-দিনে পাঁচ সেশনে টেস্ট শেষ -এটা মানা যাচ্ছে না। উইকেটের দোষ? তাবড়-তাবড় ক্রিকেটবিজ্ঞরা খোলা গলায় তা বলছেন না। কিন্তু চোখে দেখা গেল এই মাঠের ২২ গজ জমিতে প্রথমদিন থেকে ধুলো উড়ছে। তা সে বল পড়লেই উঠুক বা ব্যাটসম্যানের পা পড়লেই হোক। অর্থাৎ মাটিতে জমাট ভাবটা নেই। শুকনো। যার কারণে স্পিন ফোবিয়ায় ভুগলো ইংল্যান্ড। ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের বড়াত ভালো রুটরা মাত্র একজন প্রকৃত স্পিনার নিয়ে এ ম্যাচে খেলতে নেমেছিল। আগের টেস্টে ( চেন্নাইয়ে) ইংল্যান্ড অধিনায়ক পার্ট টাইম অফ স্পিনার হয়ে আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছিলেন। তা বোঝা গেল ভারতের প্রথম ইনিংসে। প্রথমদিনের শেষে যে হোম টিম ১১২ রান তাড়া করে ৩ উইকেটে ৯৯ রান দিয়ে শুরু করে সেইদল ১৪৫ রানে গুটিয়ে যায়-তাদের জন্য কী বলা যাবে? স্পিন বোলিং খেলতে পারলো না? ৪৬ রানে বাকি ৭ উইকেট গেল। আর সবকটি নিল বিপক্ষের দুই স্পিনার। বাঁহাতি স্পিনার লিচ নিলেন চারটি ( ৪/৫৪)। আর অফ স্পিনার নেতা রুট? তাঁর বোলিং বিশ্লেষণটাতে চোখ রাখা যাকঃ ৬.২-৩-৮-৫!
পিচে স্পিন "জুজু"? কিছুই ছিল না। অধিকাংশ ব্যাটসম্যান আউট হয়েছেন স্পিন না হওয়া বলে। আসলে মনে "স্পিন জুজু" জড়সড় করে দিয়েছিল ব্যাটসম্যানদের। হাতে ব্যাট আছে ঠিকই - রক্ষণটা মজবুত করতে প্যাডটাও চাই। কিন্তু কিভাবে তার ব্যবহার হবে? এটাই রুটরা সামাল দিতে পারলেন না। প্রথম ইনিংসে ভারতীয় ব্যাটসম্যানরাও পারেননি। তাই নিজেরা ১৪৫ রানে থমকে গিয়ে -অক্ষর আর অশ্বিনের দিকে তাকিয়ে থাকলেন। ইংল্যান্ড দ্বিতীয় দফায় ৮১ তে সকলে আউট। ৪৯ রানে ম্যাচ জয়। এই সিরিজে দু-দলের মধ্যে সেরা ব্যাটসম্যান-হিটম্যান রোহিত।গিলকে নিয়ে ২৬ মিনিটে বিপক্ষকে একটিও উইকেট না দিয়ে ১০ উইকেটে জয় তুলে নিলেন। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পয়নশিপের ফাইনালে খেলার দৌড়ে ফিরে এল টিম ইন্ডিয়া। আর ইংল্যান্ড ছিটকে গেল। পরের টেস্ট এই মাঠে না হারলেই ফাইনাল নিশ্চত। কিন্তু হারলে -অস্ট্রেলিয়ার সুযোগ চলে আসতে পারে। যা এখন এক কথায় বলেই রাখি-আর সম্ভব নয়।
সানি গাভাসকরের একসময়কার একটি মন্তব্য মনে পড়ে গেল। "ইংল্যান্ডে খেলতে গেলে মাঠের আউটফিল্ড আর পিচ আলাদা করে বোঝা যেত না। সবটাই সবুজ"। হোম অ্যাডভান্টেজ সকলে নিত। নেয়। হালে ভারতীয় দলের পেসাররা দাপট দেখানোয় - সবুজে সরব হতো না কেউ। উল্টে টেস্ট জয়- সিরিজ জয় বেড়েছে বিদেশের মাটিতে। কিন্তু বোর্ড সচিব জয় শাহ এ কী খেলা খেলালেন! আপনি আবার এখন এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের চেয়ারম্যান। স্পোর্টিং উইকেট আশা করেছিলাম এমন বিখ্যাত করে তোলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। বোর্ড সভাপতি হয়ে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় টেস্টের আকর্ষণ বাড়াতে দেশের মাটিতে " পিঙ্ক বল" টেস্ট শুরু করালেন। বাংলাদেশের বিপক্ষে তিনদিন তো খেলা গড়িয়েছিল। এক দলের ব্যাটসম্যান সেঞ্চুরি করেছিল। পেসার-স্পিনার সকলে উইকেট পেয়েছিল। আপনার রাজত্বে এটা কী উপহার দিলেন! পরের টেস্টও এই মাঠে। আর পিঙ্ক নয়, এবার লাল বল। হলফ করে বলতে পারে দু'দিনে ম্যাচ শেষ হবে না। স্পোর্টিং উইকেট দেবেন কি? নাকি টিম ম্যানেজমেন্টের বায়না শুনে "এই একই মাটিতে তৈরি এগারোটি স্ট্রিপের সমান মানের আরেকটি দেবেন"? মনে রাখবেন, এবছর পরের দিকে যখন টিম ইন্ডিয়া ইংল্যান্ড যাবে -তখন পরের বারের বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের নতুন করে পয়েন্ট গোনা শুরু হবে। ওহ্, আরেকটা প্রশ্নঃ আইপিএলে এমন উইকেট বোর্ড বানিয়ে কোনও ম্যাচে দেবে? কিংবা বছর শেষে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে? আপনি আবার ব্যবসা ভালো বোঝেন। তাই চিনা ভিভো সংস্থাকে এবারই ফিরিয়ে এনেছেন আইপিএল স্পনসর করে। চিনা বিদ্রোহ শেষ। এখন চাই শুধু অর্থ। টেস্ট ক্রিকেটের অনর্থে কার কী আসে যায়?